ক্লাস্টার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া, ১৩ হেক্টরজুড়ে ধ্বংসক্ষমতার দাবি

কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন ওয়ারহেড পরীক্ষা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চার ধরনের ওয়ারহেড সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা

কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ক্লাস্টার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, নতুন এই ওয়ারহেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রটির কার্যকারিতা ও ধ্বংসক্ষমতা যাচাই করতেই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসন এ পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষাটি তদারকি করেন জেনারেল কিম জং সিক। তিনি ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্য এবং দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বিভাগের প্রথম উপপরিচালক।

উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাবিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ওয়ারহেড গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, পরীক্ষায় দেশটির ‘টাইপ-২ স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস্টার ওয়ারহেড’-এর সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই ওয়ারহেড অত্যন্ত ঘন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হেক্টর বা ২৯ থেকে ৩২ একর এলাকাজুড়ে ধ্বংসক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে।

দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের প্রধান জানিয়েছেন, ক্লাস্টার ওয়ারহেডকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্যে তৈরি ওয়ারহেড এবং সাধারণ বা স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারহেড।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চার ধরনের ওয়ারহেডই সামরিক ইউনিটগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সামরিক বাহিনী অভিযান পরিচালনার লক্ষ্য এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী উপযুক্ত ওয়ারহেড নির্বাচন করতে পারবে।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসন বলেছে, অস্ত্রব্যবস্থার ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হিসেবে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

ক্লাস্টার ওয়ারহেড এমন এক ধরনের বিস্ফোরক অস্ত্র, যা বিস্ফোরণের সময় একাধিক ছোট বিস্ফোরক উপাদান ছড়িয়ে দেয়। এসব উপাদান বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

তবে পরীক্ষার ফলাফল ও ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলো উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *