বুলগেরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন ইয়োতোভা

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। প্রাথমিক ফলাফলে তিনি প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির সাবেক অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে গিউরভ পেয়েছেন প্রায় ৩৯ শতাংশ। এই ফল চূড়ান্ত হলে বুলগেরিয়ার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হবেন ইয়োতোভা।

রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটের পর দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু করে। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৯৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের হিসাব প্রক্রিয়াকরণের পর ইয়োতোভা পেয়েছেন ৫৭ দশমিক ৬৩৬ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে গিউরভ পেয়েছেন ৩৯ দশমিক ৪০২ শতাংশ। আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ফল ঘোষণার প্রক্রিয়া এখনো বাকি।

পরাজয় মেনে নিয়ে গিউরভ বলেন, নির্বাচনের ফল মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘বুলগেরিয়ার নাগরিকেরা এভাবেই ভোট দিয়েছেন।’ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনও ইয়োতোভাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও জ্বালানির স্বাধীনতার মতো বিষয়ে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা জানান।

ইয়োতোভা রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপের পক্ষে এবং ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমাপন্থি বিরোধী দলগুলোর সমর্থন পেয়েছেন গিউরভ। ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থানও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে ইয়োতোভা পেয়েছিলেন প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং গিউরভ ৩২ শতাংশ ভোট। দ্বিতীয় দফায় ভোটার উপস্থিতি ছিল আনুমানিক ২৭ থেকে ২৯ শতাংশ। প্রথম দফায় উপস্থিতি ছিল প্রায় ২৩ শতাংশ।

গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ পদত্যাগ করে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান ইয়োতোভা। তিনি আগে রাদেভের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এবারের নির্বাচনে জয়ী হলে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বের পর সরাসরি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু করবেন তিনি।

বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাও নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। এসব হামলার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির রাজনৈতিক নেতারা। তবে হামলার সঙ্গে মস্কোর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সরকার।

ইয়োতোভা ও গিউরভ—দুজনই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রাশিয়ার ভূমিকা ও ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার প্রশ্নে তাঁদের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *