চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া শুরু হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে এবং পরপর দুবার বা তার বেশি শূন্য পাসের রেকর্ড থাকলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাব পর্যালোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।
সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে এ বছর পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ২৯ হাজার ১৩ জন কম। সামগ্রিক ফলাফলের পাশাপাশি এবার বেড়েছে শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। এ বছর মোট ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০২। অর্থাৎ এক বছরে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ছয় বছরে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ২৯১টি। এর আগে ২০২৪ সালে ৬৫টি, ২০২৩ সালে ৪২টি, ২০২২ সালে ৫০টি এবং ২০২১ সালে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ছিল শূন্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই নামসর্বস্ব বা কাগুজে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও অবকাঠামো থাকলেও নিয়মিত শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। আবার নন-এমপিওভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে তীব্র শিক্ষকসংকট। শূন্য পাসের তালিকায় থাকা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান থেকেই মাত্র পাঁচ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, অনেক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন না থাকলেও কিছু ব্যক্তি মিলে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। কয়েক বছর পর এমপিওভুক্তির মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেও এমন প্রতিষ্ঠান করা হয়। উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এ প্রবণতা বেশি। পড়াশোনার প্রতি যথাযথ মনোযোগ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী আসে না। এলেও ভালো ফল করতে পারে না।
অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ না করে আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত বা পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনাও করছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাছাকাছি অবস্থিত অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেগুলো রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে সীমিত পরিসরে কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিন্যাস করা যায়, তা নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের চাকরি বহাল থাকবে।
সার্বিক বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর জন্য মঙ্গলবার চিঠি দেওয়া হবে। গত পাঁচ বছরের শিক্ষার্থী, পাসের হার ও শিক্ষকদের তথ্য চাওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাব পাওয়ার পর একাধিকবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে।