দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যা শিক্ষার্থীর তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। অন্যদিকে, এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। ফলে পাস করা সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও প্রায় ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৩টি আসন ফাঁকা থাকবে।
সাম্প্রতিক এইচএসসি ও সমমানের ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। পাসের হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যার এই চিত্র নতুন করে শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টি সামনে এনেছে।
দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক পর্যায়ে আসন রয়েছে ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। এই আসন পাস করা শিক্ষার্থীদের মাত্র ৯ দশমিক ৮ শতাংশের জন্য। অন্যদিকে, অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসনসংখ্যা ১০ লাখ ১৮ হাজার ৬৩২টি। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে রয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি আসন।
এ ছাড়া ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ১৮ হাজার ৮৮৬টি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ হাজার ৪৩৮টি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ৯০টি এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৪৪০টি আসন রয়েছে।
দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আসনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার। এ হিসাবের বাইরে রয়েছে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের আসন। ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ৫ হাজার ১০০টি এবং ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ১টি আসন রয়েছে। সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫টি, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ১ হাজার ৪৯০টি এবং সশস্ত্র বাহিনী ও আর্মি মেডিকেল কলেজগুলোতে ৩৭৫টি আসন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও পৃথক ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
এদিকে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির যোগ্যতা শিথিল করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সম্পূরক পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত এবং বুধবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় জানা গেছে।