বাবার পথ ধরে শিক্ষক আশীষ, রাবিতে পড়াশোনা শেষে নতুন যাত্রা

রাজশাহীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে পড়াশোনা শেষ করে বাবার পেশাকেই বেছে নিয়েছেন নওগাঁর রাণীনগরের আশীষ কুমার সরকার। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করা বাবা রথীন্দ্রনাথ সরকারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সম্প্রতি ৬৫ নম্বর ভাটকৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি।

আশীষের এই অর্জনে পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের মধ্যে আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের কাছে এটি শুধু নতুন চাকরিতে যোগদান নয়, বরং বাবার দেখানো পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আশীষ কুমারের বাবা শ্রী রথীন্দ্রনাথ সরকার শফিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের শিক্ষক। শিক্ষকতা জীবনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা, স্নেহ ও শাসনের মধ্য দিয়ে মানুষ গড়ার কাজে তাঁর ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত।

ছোটবেলা থেকেই বাবার শিক্ষকতা জীবন কাছ থেকে দেখেছেন আশীষ। একজন শিক্ষক কীভাবে নিজের শ্রম, মেধা ও আন্তরিকতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখেন, তা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। বাবার সততা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা তাঁর নিজের জীবনেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

আশীষ কুমার ২০১৫ সালে শফিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে নওগাঁ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। সেখানে পড়াশোনা শেষ করে এবার শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হলেন তিনি।

বাবার পেশাকে নিজের কর্মজীবনের অংশ হিসেবে বেছে নেওয়াকে আশীষের শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষক পরিবারের সন্তান হিসেবে বাবার আদর্শ ধারণ করে একই পেশায় যুক্ত হওয়া গর্বের বিষয়। এতে পারিবারিক মূল্যবোধ ও শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটেছে।

শিক্ষকতা শুধু জীবিকা অর্জনের একটি মাধ্যম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলোয় গড়ে তোলার দায়িত্ব। নতুন কর্মজীবনে আশীষ কুমার নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করছেন তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

বাবার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা ও আদর্শকে ধারণ করে আশীষের এই নতুন পথচলা তাঁর পরিবারের জন্য আনন্দের। এখন শিক্ষার্থীদের শেখানো, তাদের মেধা বিকাশে সহায়তা করা এবং একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই হবে তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *