কাতারের শান্তি প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলল ইরান, অনড় পারমাণবিক অবস্থানে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে নতুন একটি খসড়া শান্তি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে কাতার। তবে প্রস্তাবটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনেরও কোনো ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। ফলে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) ইরানের কাছে নতুন খসড়া প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়। সপ্তাহের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে তেহরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছিল।

প্রস্তাবটিতে সাত দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে প্রতিদিন আস্থা তৈরির বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তির প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহের শুরুতে কার্যকর হতে পারে এবং কয়েকটি দেশ এর নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে কাজ করতে পারে বলে জানিয়েছেন আলোচনার বিষয়ে অবগত ওই কর্মকর্তা।

তবে আলোচনায় যুক্ত ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাতারের উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, দোহা যে ধারণাগুলো উপস্থাপন করেছে, সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয় এবং সেগুলোকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও বলা যায় না। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের অবস্থানেও কোনো নমনীয়তা আসেনি বলে তিনি জানান।

যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগে কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তানও মধ্যস্থতা করছে। কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘাত আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের নিজস্ব সাত দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে এবং ইরানের পরিকল্পনা এক সপ্তাহেরও কম সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে।

তবে আলোচনার প্রধান বাধা হলো কোন পক্ষ আগে কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে মতবিরোধ। ওয়াশিংটন চায়, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকুক। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়গুলো আগে সমাধান করতে হবে।

এদিকে সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হুথিদের হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলারের ওপরে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক উত্তেজনা কমার নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না। শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইরানের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া এবং মধ্যস্থতাকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন পরিস্থিতির অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্সের প্রতিবেদন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *