নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলোকে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন। নির্বাচনের আংশিক ফলে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পূর্বাভাসের মধ্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৩-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহুর সরকারের বিকল্প গড়ে তুলতে এবং ইসরায়েলের জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলে বর্ণবাদ, বঞ্চনা ও আধিপত্যবাদ অব্যাহত থাকবে, নাকি ইহুদি ও আরবদের মধ্যে প্রকৃত অংশীদারত্ব গড়ে উঠবে—রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

ইয়েনেটকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে জাবারিন বলেন, তাঁদের দল নিজেদের মূল্যবোধ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করবে। নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ তৈরিতেও তাঁরা প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরায়েলের নির্বাচনে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যালট বাক্স গণনার পর প্রকাশিত আংশিক ফলাফলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৭টি। আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১৩টি এবং রা’আম ছয়টি আসন পেতে পারে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। আংশিক ফলাফলে কোনো শিবিরই এককভাবে সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে না পারায় আরব দলগুলোর অবস্থান সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোটে নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াহাদ, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটসসহ কয়েকটি রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া এই জোটের পক্ষে নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে বলে নির্বাচনী সমীকরণে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট বা সরকার গঠন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইজেনকটের শিবির আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে তাঁর পদ থেকে সরানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। ওহানা নেতানিয়াহুর দল লিকুদের সদস্য।

ভোট গণনা শেষ হলে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। এরপর সরকার গঠনের আলোচনা কোন দিকে এগোয়, আরব দলগুলো কী অবস্থান নেয় এবং নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির তাদের মধ্যে সমর্থন আদায়ে কতটা সফল হয়—এসবের ওপর ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *