বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ লুট করছে, হাল ছাড়বেন না মমতা

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব রাহুল গান্ধী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গকে বিজেপি লুট করছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই তাঁরা হাল ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী।

সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআরের (SIR) শিকার। তাঁরা এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

মমতা বলেন, তাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন না। রাজনীতি ও গণতন্ত্রের মাধ্যমেই জবাব দেবেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র, অধিকার ও নির্বাচনব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমরা হাল ছাড়ব না।’

এদিকে একই সমাবেশে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। তাঁর অভিযোগ, ভোট চুরির মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

রাহুল আরও বলেন, এটি সাধারণ কোনো চুরি নয়; মানুষের কণ্ঠস্বর ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি এ ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেন।

দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এ সমাবেশে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। সমাবেশের মূল দাবি ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবদিহি।

বিরোধী জোটের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এশিয়ান নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *