ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়?(আপডেট)

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়পত্র। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট তৈরি, চাকরির আবেদন, জমি-জমা সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয়। তাই নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করে ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিস দেওয়ার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে—ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়?

অনেকেই মনে করেন, ছবি তোলার কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। আবার কেউ কেউ ১৫ থেকে ৩০ দিন, এক মাস কিংবা ছয় মাসের সময়সীমাকে সবার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মনে করেন। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। ছবি তোলার পর আবেদনকারীর তথ্য যাচাই, বায়োমেট্রিক মিলিয়ে দেখা, নিবন্ধন অনুমোদন এবং নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তথ্য হালনাগাদের মতো কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এনআইডি নম্বর তৈরি ও অনলাইন কপি ডাউনলোডের সুযোগ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার নিবন্ধন একটি ধাপভিত্তিক প্রক্রিয়া। তাই ছবি তোলার পর সবার এনআইডি একই দিনে বা নির্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যে তৈরি হবে—এমন কোনো সার্বজনীন নিশ্চয়তা নেই। তবে নিবন্ধন অনুমোদিত হলে অনলাইন থেকে ডিজিটাল এনআইডি কপি সংগ্রহ করা যায়। অন্যদিকে স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়ার সময় নির্ভর করে কার্ড মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রমের ওপর।

ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়?

নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময় ছবি, আঙুলের ছাপ, স্বাক্ষর ও চোখের আইরিস দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে। যাচাই শেষে নিবন্ধন অনুমোদিত হলে এনআইডি নম্বর তৈরি হয়। এরপর অনলাইন পোর্টালে তথ্য পাওয়া গেলে আবেদনকারী ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারেন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছবি তোলার পর এনআইডি নম্বর তৈরি বা অনলাইন কপি পাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট ১৫ দিন বা ৩০ দিনের সময়সীমা নিশ্চিত করা নেই। কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক দ্রুত তথ্য হালনাগাদ হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে যাচাই বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে বেশি সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে স্মার্ট এনআইডি কার্ডের ক্ষেত্রে সময় আরও ভিন্ন হতে পারে। কারণ ডিজিটাল এনআইডি নম্বর তৈরি হওয়ার পরই যে স্মার্ট কার্ড ছাপানো ও বিতরণ সম্পন্ন হবে, এমন নয়। স্মার্ট কার্ডের মুদ্রণ, সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো এবং বিতরণ কার্যক্রমের ওপর কার্ড পাওয়ার সময় নির্ভর করে।

সুতরাং ছবি তোলার পর ১৫–৩০ দিনের মধ্যে অনলাইন কপি এবং ৩–৬ মাসের মধ্যে স্মার্ট কার্ড পাওয়া যাবে—এমন সময়সীমাকে নির্বাচন কমিশনের নিশ্চিত নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

ছবি তোলার পর এনআইডি তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া কী?

নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রথমে আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ছবি, আঙুলের ছাপ, স্বাক্ষর এবং চোখের আইরিস দিতে হয়। এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বায়োমেট্রিক নেওয়ার পর তথ্য স্থানীয় সার্ভার থেকে কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠানো হয়। এরপর নিবন্ধিত তথ্য যাচাই, বায়োমেট্রিক মিলিয়ে দেখা এবং একাধিকবার নিবন্ধনের সম্ভাবনা পরীক্ষা করার মতো কাজ সম্পন্ন হয়।

নিবন্ধন কার্যক্রমের পর ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ ও দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির মতো ধাপও থাকতে পারে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করে তথ্য হালনাগাদ করা হলে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে যায়।

অর্থাৎ ছবি তোলার পরই এনআইডি কার্ড তৈরি হয়ে যায় না। ছবি ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

নতুন ভোটার হলে অনলাইন এনআইডি কবে ডাউনলোড করতে পারবেন?

নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের পর আপনার আবেদন অনুমোদিত হয়ে এনআইডি নম্বর তৈরি হলে অনলাইন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করা যায়। এজন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত এনআইডি সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন করতে হবে।

সরকারি পোর্টালটি হলো: https://services.nidw.gov.bd/

অনলাইন কপি ডাউনলোডের জন্য সাধারণত এনআইডি নম্বর অথবা নিবন্ধন ফরমের নম্বর, জন্মতারিখ এবং প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাইয়ের তথ্য লাগতে পারে। পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাইল নম্বরে ওটিপি যাচাই এবং প্রয়োজনে NID Wallet-এর মাধ্যমে মুখমণ্ডল যাচাই করতে হতে পারে।

তবে ছবি তোলার পরপরই পোর্টালে তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নয়। আবেদন অনুমোদন ও সার্ভারে তথ্য হালনাগাদ হওয়ার আগে নিবন্ধন নম্বর দিয়ে খোঁজ করলে তথ্য না-ও পাওয়া যেতে পারে। এমন হলে কিছুদিন পর আবার চেষ্টা করতে পারেন। দীর্ঘদিন তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা উচিত।

ছবি তোলার পর এনআইডি নম্বর কীভাবে জানবেন?

নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময় আবেদনকারীকে একটি নিবন্ধন স্লিপ দেওয়া হয়। এই স্লিপে থাকা ফরম নম্বর ভবিষ্যতে আবেদনসংক্রান্ত তথ্য খোঁজা ও নির্বাচন অফিসে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তাই স্লিপটি যত্ন করে সংরক্ষণ করা জরুরি।

নিবন্ধন অনুমোদিত হলে নির্বাচন কমিশন আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য জানাতে পারে। তবে এসএমএস না পেলেই আবেদন বাতিল হয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। মোবাইল নম্বর ভুল দেওয়া, নেটওয়ার্ক সমস্যা কিংবা তথ্য হালনাগাদে বিলম্বের কারণেও বার্তা না আসতে পারে।

এনআইডি নম্বর না পেলে নিবন্ধন স্লিপ সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। সেখানে আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই করে নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

অনলাইনে এনআইডি স্ট্যাটাস চেক করবেন যেভাবে

নতুন ভোটার হিসেবে ছবি ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন।

প্রথমে https://services.nidw.gov.bd/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি অথবা আগে থেকে থাকা অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। নিবন্ধনের সময় পাওয়া ফরম নম্বর বা এনআইডি নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।

পোর্টাল যে পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশনা দেবে, সেগুলো অনুসরণ করুন। মোবাইলে ওটিপি এলে নির্ধারিত স্থানে বসান। প্রয়োজন হলে NID Wallet অ্যাপের মাধ্যমে মুখমণ্ডল যাচাই সম্পন্ন করুন।

লগইন করার পর আপনার অ্যাকাউন্টে যে সেবাগুলো পাওয়া যাবে, সেগুলো থেকে এনআইডি তথ্য বা ডাউনলোডের অপশন দেখুন। এনআইডি নম্বর তৈরি ও তথ্য অনুমোদিত হয়ে থাকলে অনলাইন কপি সংগ্রহের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

তবে পোর্টালে সব সময় আলাদা করে ‘NID Status’ নামে একটি অপশন থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। পোর্টালের বর্তমান ইন্টারফেস ও আপনার আবেদনের পর্যায় অনুযায়ী অপশনের নাম ভিন্ন হতে পারে।

অনলাইন এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম

নিবন্ধন অনুমোদিত হওয়ার পর অনলাইন এনআইডি কপি সংগ্রহের জন্য প্রথমে নির্বাচন কমিশনের সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে।

অ্যাকাউন্ট তৈরি না করা থাকলে নিবন্ধন ফরমের নম্বর বা এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। মোবাইল নম্বর যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মুখমণ্ডল শনাক্তকরণের ধাপ শেষ করতে হবে।

সব যাচাই সফল হলে অ্যাকাউন্টের ড্যাশবোর্ডে এনআইডি ডাউনলোডের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। সেখান থেকে পিডিএফ কপি সংগ্রহ করে নিজের ডিভাইসে সংরক্ষণ করতে পারবেন।

অনলাইন কপি ডাউনলোড করার পর নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন। কোনো ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

অনলাইন কপি অনেক সরকারি ও বেসরকারি কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্টভাবে মূল স্মার্ট কার্ড বা অতিরিক্ত যাচাই চাইলে তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তাই অনলাইন কপি সব ধরনের কাজে কোনো শর্ত ছাড়াই গ্রহণযোগ্য—এমন দাবি করা ঠিক নয়।

নতুন ভোটারের স্মার্ট এনআইডি কার্ড কখন পাওয়া যায়?

অনলাইন এনআইডি কপি পাওয়া এবং স্মার্ট এনআইডি কার্ড হাতে পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। ডিজিটাল এনআইডি নম্বর তৈরি হওয়ার পর অনলাইন কপি ডাউনলোড করা গেলেও স্মার্ট কার্ডের জন্য আলাদা মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রম প্রয়োজন হয়।

নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট সময় ও এলাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। কোনো এলাকায় কার্ড বিতরণ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যায়। কার্ড বিতরণের তারিখ, স্থান এবং সংগ্রহের নিয়ম এলাকাভেদে আলাদা হতে পারে।

স্মার্ট কার্ডের জন্য সবার ক্ষেত্রে ৩–৬ মাস বা ৩০–৬০ দিনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত নয়। কোনো এলাকায় দ্রুত কার্ড বিতরণ হতে পারে, আবার অন্য এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই অনলাইন এনআইডি হাতে পাওয়ার পরও স্মার্ট কার্ড না পেলে অযথা নতুন করে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করবেন না। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে কার্ডের বর্তমান অবস্থা জেনে নিন।

তথ্য সংশোধন করলে এনআইডি পেতে কতদিন লাগে?

নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময় এবং আগে থেকে থাকা এনআইডির তথ্য সংশোধনের সময় এক নয়। কারও নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা বা অন্য কোনো তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে তাঁকে সংশোধনের জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়।

সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। সংশোধনের ধরন, প্রমাণপত্রের মান, তথ্যের অসংগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যাচাইয়ের ওপর অনুমোদনের সময় নির্ভর করে।

তাই তথ্য সংশোধনের জন্য ৭–১৫ দিন বা ১–৩ মাসকে সবার জন্য নিশ্চিত সময় বলা যাবে না। আবেদন জমা দেওয়ার পর পোর্টালে পাওয়া নির্দেশনা ও আবেদনের অবস্থা অনুসরণ করতে হবে। অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হলে দ্রুত জমা দেওয়া উচিত।

হারানো এনআইডি পুনঃইস্যু করলে কতদিন লাগে?

আগে থেকে এনআইডি থাকা অবস্থায় কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন ভোটার নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে পুনঃইস্যু বা রিইস্যুর জন্য আবেদন করতে হয়। একইভাবে কার্ড নষ্ট হয়ে গেলে বা ব্যবহারের অনুপযোগী হলে নির্ধারিত নিয়মে পুনরায় কার্ড পাওয়ার আবেদন করা যায়।

পুনঃইস্যুর আবেদন অনুমোদিত হলে অনলাইন কপি সংগ্রহের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে অনলাইন কপি সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে কিংবা হার্ড কপি ৩০–৬০ দিনের মধ্যে হাতে আসবে—এমন নির্দিষ্ট সময়সীমা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

আবেদনের ধরন, ফি, যাচাই এবং কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের ওপর সময় নির্ভর করে। আবেদন করার পর পোর্টালে প্রদর্শিত অবস্থা অনুসরণ করুন।

ছবি তোলার পর এনআইডি পেতে দেরি হওয়ার কারণ

ছবি ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার পরও এনআইডি তৈরি হতে দেরি হলে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা বা বাবা-মায়ের তথ্যের সঙ্গে অন্যান্য সরকারি রেকর্ডের অমিল থাকলে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, বায়োমেট্রিক তথ্যের সঙ্গে আগে থেকে থাকা কোনো রেকর্ডের মিল পাওয়া গেলে একাধিক নিবন্ধন প্রতিরোধের জন্য যাচাই করা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন একই ব্যক্তির একাধিক ভোটার নিবন্ধন ঠেকাতে বায়োমেট্রিক তথ্য পরীক্ষা করে।

তৃতীয়ত, আবেদনপত্রে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আবেদন যাচাই, সার্ভারে তথ্য পাঠানো, কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে হালনাগাদ এবং প্রশাসনিক কাজের চাপের কারণেও সময় বাড়তে পারে।

এসব কারণে দেরি হলে নতুন করে আরেকটি ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করা উচিত নয়। এতে একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বরং আগের নিবন্ধন স্লিপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।

এনআইডি পেতে দেরি হলে কী করবেন?

ছবি তোলার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এনআইডি নম্বর বা অনলাইন কপি না পেলে প্রথমে নিজের নিবন্ধন স্লিপ ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করুন। এরপর এনআইডি সেবা পোর্টালে লগইন করে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না দেখুন।

পোর্টালে তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। নিবন্ধন স্লিপ, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। অফিস থেকে জানতে চান আবেদনটি যাচাইয়ের কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং অতিরিক্ত কোনো কাগজপত্র প্রয়োজন কি না।

প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত সরকারি হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করে নির্দেশনা নিতে পারেন। ফোনে যোগাযোগের সময় নিজের নিবন্ধন স্লিপের তথ্য প্রস্তুত রাখুন। তবে অপরিচিত কাউকে ওটিপি, অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।

ছবি তোলার পর এনআইডি পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। কোনো তথ্য ভুল থাকলে নিবন্ধনের সময়ই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।

ছবি ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর পাওয়া নিবন্ধন স্লিপ যত্ন করে সংরক্ষণ করুন। আবেদন করার সময় যে মোবাইল নম্বর দিয়েছেন, সেটি সচল রাখুন। নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো এসএমএস বা ফোন এলে সেটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

একই ব্যক্তি যেন একাধিকবার নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদন না করেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আগে ভোটার হয়ে থাকলে বা অন্য কোনো এলাকায় নিবন্ধনের আবেদন করে থাকলে নতুন করে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এনআইডি তৈরির নির্দিষ্ট সময় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নির্বাচন কমিশনের সরকারি পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে নিজের আবেদনের অবস্থা নিশ্চিত করা।

উপসংহার

ছবি তোলার পর কতদিনে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যাবে, তার জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট ১৫–৩০ দিনের সময়সীমা নেই। নতুন ভোটার নিবন্ধনের পর তথ্য যাচাই, বায়োমেট্রিক মিলিয়ে দেখা এবং আবেদন অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হলে এনআইডি নম্বর তৈরি হয়। এরপর অনলাইন পোর্টালে তথ্য পাওয়া গেলে ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করা যায়।

অন্যদিকে স্মার্ট এনআইডি কার্ড পেতে আরও সময় লাগতে পারে। কারণ কার্ড মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রম এলাকাভেদে পরিচালিত হয়। তাই ছবি তোলার পর নিবন্ধন স্লিপ সংরক্ষণ করুন, অনলাইন পোর্টালে খোঁজ রাখুন এবং প্রয়োজন হলে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। এভাবেই নিজের এনআইডি আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *