ডাক বিভাগে মাত্র ১০ টাকায় পার্সেল ডেলিভারি করবেন যেভাবে

অনলাইনে পণ্য বিক্রি করেন কিংবা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কম খরচে পার্সেল পাঠাতে চান—তাঁদের জন্য সাশ্রয়ী একটি সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের স্পিড পোস্ট সেবায় প্রথম ১ কেজি পার্সেল পাঠাতে খরচ মাত্র ১০ টাকা। অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য দিতে হয় ৫ টাকা। তবে এই মূল্য নির্দিষ্ট স্পিড পোস্ট সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; ডাক বিভাগের সব ধরনের পার্সেল বা হোম ডেলিভারির মাশুল এক নয়।

ডাক বিভাগের এই সেবা বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, অনলাইন ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। কারণ বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম খরচে পণ্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত সেবার তথ্য অনুযায়ী, একটি পার্সেলে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পাঠানো যায়। শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, বোতলজাত তেলসহ বিভিন্ন পণ্য এবং অন্যান্য অনুমোদিত সামগ্রী পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।

প্রথম ১ কেজি পার্সেলের খরচ ১০ টাকা

স্পিড পোস্ট সেবায় প্রথম ১ কেজি ওজনের পার্সেল পাঠাতে মাশুল দিতে হয় ১০ টাকা। এরপর অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য দিতে হয় ৫ টাকা। অর্থাৎ ২ কেজির পার্সেল পাঠাতে মাশুল ১৫ টাকা, ৩ কেজিতে ২০ টাকা এবং ৫ কেজিতে ৩০ টাকা। তবে চূড়ান্ত মাশুল নির্ধারণের আগে ডাক বিভাগের অনলাইন ক্যালকুলেটর বা সংশ্লিষ্ট ডাকঘর থেকে বর্তমান চার্জ ও প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করে নেওয়া ভালো।

কত দিনে পৌঁছাবে পার্সেল?

ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবার প্রচারিত সময়সীমা অনুযায়ী, জেলা শহর থেকে ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে পৌঁছাতে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা। তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। প্রতি শুক্রবার স্পিড পোস্টের বুকিং ও ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ থাকে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেভাবে পার্সেল বুকিং করবেন

স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পার্সেল পাঠাতে গ্রাহককে নিকটস্থ জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর অথবা নির্ধারিত সাব-পোস্ট অফিসে যেতে হবে। সঙ্গে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা পণ্যটি নিতে হবে। ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পণ্যটি নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত করতে হবে, যাতে পরিবহনের সময় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

প্যাকেটের ওপর প্রেরক ও প্রাপকের নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা এবং সচল মোবাইল নম্বর স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। এরপর ডাকঘরের কাউন্টারে গিয়ে স্পিড পোস্ট সেবার মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর কথা জানাতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওজন ও সেবার ধরন অনুযায়ী মাশুল নির্ধারণ করবেন। নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করতে হবে।

বুকিংয়ের পর ট্র্যাকিং নম্বরসহ একটি রসিদ দেওয়া হয়। পার্সেল পাঠানোর পর রসিদটি যত্ন করে সংরক্ষণ করা জরুরি। কারণ এই নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে পার্সেলের অবস্থান জানা যায়।

অনলাইনে পার্সেল ট্র্যাক করবেন যেভাবে

পার্সেল কোথায় আছে বা গন্তব্যে পৌঁছেছে কি না, তা জানতে ডাক বিভাগের অনলাইন ট্র্যাকিং সুবিধা ব্যবহার করা যায়। এ জন্য ট্র্যাকিং পোর্টালে গিয়ে রসিদে থাকা ট্র্যাকিং নম্বর নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করাতে হবে। এরপর পার্সেলের বর্তমান অবস্থান ও ডেলিভারি-সংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে।

ট্র্যাকিংয়ের জন্য ভিজিট করুন: https://report.dms.bdpost.gov.bd

পার্সেল পাঠানোর আগে খরচ জানবেন যেভাবে

পার্সেল বুকিংয়ের আগেই সম্ভাব্য ডাকমাশুল হিসাব করার জন্য ডাক বিভাগের অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর রয়েছে। নির্দিষ্ট সেবার ধরন ও ওজন অনুযায়ী সেখানে মাশুল যাচাই করা যায়। এ জন্য ভিজিট করুন: https://booking.bpodms.gov.bd/mashul

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি ও ওয়ারীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাব-পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পার্সেল গ্রহণ ও বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে ঢাকার ২১টি প্রধান সাব-পোস্ট অফিসে এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে কম খরচে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবা সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প। তবে পার্সেল পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ডাকঘরে সেবাটি চালু আছে কি না, পণ্যের ধরন গ্রহণযোগ্য কি না এবং নির্ধারিত মাশুল ও ডেলিভারির সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *