ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশ করলেন রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন তিনি।

ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা একটি গাড়িতে করে বেরিয়ে আসেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, গাড়িতে কারা ছিলেন কিংবা কথিত বৈঠকের স্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। ফলে শুধু ভিডিও প্রকাশের ভিত্তিতে বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

আগেও একই অভিযোগ: এর আগে ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে একই অভিযোগ তুলেছিলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, গত ১৬ অক্টোবর মাগরিবের পর রাজধানীর বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা এটিএম মাছুমসহ তিনজন।

তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেননি রাশেদ খাঁন। সরবরাহ করা তথ্যে কথিত বৈঠক নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্যের উল্লেখও নেই।

জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: নিজের পোস্টে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, যারা প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন, তাঁরা কোন স্বার্থে দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে কথিত গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করা এবং দেশটির উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করা এক বিষয় নয়।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন বলেন, তিনি নৈতিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করলে কথিত বৈঠকের বিষয়টি স্পষ্ট করবেন বলে আশা করেন। তা না হলে জামায়াত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন রাশেদ খাঁন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।

কথিত বৈঠকের বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বা জামায়াতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ, ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই ছাড়া ঘটনাটিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *