যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতির মাশুল ইউরোপকে দিতে হবে, হুঁশিয়ারি ইরানের

ইসরায়েলকে সমর্থনের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য মোহসেন রেজায়ির; তেহরান আলোচনায় ফিরতে চায় বলে দাবি ট্রাম্পের

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতির মাশুল ইউরোপীয় দেশগুলোকে দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেওয়ার পর এখন যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ইউরোপের অভিযোগ করাকে দ্বিচারিতা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ি বলেন, ইউরোপ গতকাল ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দিয়ে গর্ব করেছিল। অথচ এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে নিজেদের হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি নিয়ে অভিযোগ করছে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধে সমর্থন দেওয়ার সময় ইউরোপীয় দেশগুলো কি ভেবেছিল, এর কোনো প্রভাব তাদের ওপর পড়বে না? যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের একটি মূল্য আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার সেই মূল্য দেওয়ার পালা ইউরোপের।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার মধ্যে ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য সামনে এল। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি ইউরোপের বিরুদ্ধে ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান বারবার আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করছে।

ট্রাম্পের দাবি, চলমান সংঘাতের কারণে ইরান বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। এমনকি দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের বেতন দেওয়ার সামর্থ্যও কমে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি বিস্তারিত কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি।

চলমান সংঘাতকে ‘প্রচলিত যুদ্ধ নয়’ বলে বর্ণনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলকভাবে কম অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে যুক্তি দেন তিনি।

এ ছাড়া ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ থেকে পাওয়া সুবিধা ইরানবিরোধী অভিযানের ব্যয়ের চেয়েও বেশি বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে তাঁর এসব বক্তব্যও মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব দাবি হিসেবে বিবেচিত হবে।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *