আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনায় তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে একটি স্কোয়াডের তালিকা প্রকাশ করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রকাশিত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের মতো পরিচিত তারকারা। তাঁদের পাশাপাশি রয়েছেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, নিকোলাস পাজ, মাতিয়াস সুলে ও গিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির মতো একঝাঁক তরুণ ফুটবলার। আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ দল গঠনের পরিকল্পনায় নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি এই তালিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তবে প্রকাশিত গ্রাফিকটির আনুষ্ঠানিকতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
দলটির গোলরক্ষক বিভাগে রাখা হয়েছে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো ও সান্তিয়াগো বেলত্রানকে। আর্জেন্টিনার গোলবার সামলানোর ক্ষেত্রে মার্তিনেজ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অন্যদিকে রুলি ও মুসোর মতো অভিজ্ঞ গোলরক্ষকদের উপস্থিতি স্কোয়াডে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে। তরুণ গোলরক্ষক বেলত্রানের অন্তর্ভুক্তিও ভবিষ্যতের জন্য নতুন বিকল্প তৈরির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। গোলরক্ষক বিভাগে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এই সমন্বয় দলটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্ষণভাগে জায়গা পেয়েছেন গনসালো মনতিয়েল, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, ফাকুন্দো মেদিনা, লিওনার্দো বালার্দি, রোমান ভেগা ও অ্যারন আনসেলমিনোর মতো ফুটবলাররা। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দৃঢ়তা, মনতিয়েলের অভিজ্ঞতা এবং তাগলিয়াফিকোর রক্ষণাত্মক দক্ষতা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে তরুণ আনসেলমিনো ও রোমান ভেগার মতো খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প তৈরি করার সুযোগ দেবে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি পেছন থেকে আক্রমণ গড়ে তোলাও এই রক্ষণভাগের অন্যতম দায়িত্ব হতে পারে।
মাঝমাঠে স্কালোনির সম্ভাব্য পরিকল্পনায় রয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, নিকোলাস পাজ, ম্যাক্সিমো পেরোনে, আগুস্তিন জিয়াই ও এক্সেকিয়েল ফার্নান্দেজ। এই বিভাগে অভিজ্ঞতা, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং দক্ষতা ও আক্রমণ তৈরির সক্ষমতার সমন্বয় রয়েছে। এনজো ও ম্যাক অ্যালিস্টার দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের সঙ্গে নিকোলাস পাজের মতো তরুণ সৃজনশীল ফুটবলার যুক্ত হলে আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। পাশাপাশি পালাসিওসের অভিজ্ঞতা মাঝমাঠের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরি করাই এই বিভাগের প্রধান কাজ।
আক্রমণভাগে জুলিয়ান আলভারেজের পাশাপাশি রাখা হয়েছে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, মাতিয়াস সুলে, থিয়াগো আলমাদা, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো, জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি ও জুলিয়ানো সিমিওনেকে। এই তালিকার সবচেয়ে আলোচিত তরুণ নামগুলোর একটি মাস্তানতুয়োনো। অল্প বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলে আলোচনায় আসা এই খেলোয়াড়ের কাছ থেকে ভবিষ্যতে বড় প্রত্যাশা থাকতে পারে। অন্যদিকে আলভারেজের গতি, পরিশ্রম ও গোল করার দক্ষতা আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সুলে, আলমাদা ও প্রেস্টিয়ান্নির মতো খেলোয়াড়দের সৃজনশীলতা আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে পারে। বিভিন্ন পজিশনে খেলার সক্ষমতা থাকায় তাঁদের উপস্থিতি কোচের কৌশলগত বিকল্পও বাড়াবে।
এই স্কোয়াডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তরুণ ফুটবলারদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ। বিশ্বকাপজয়ী দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে দলটির শক্তি ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিশেষ করে নিকোলাস পাজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, মাতিয়াস সুলে ও গিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির মতো খেলোয়াড়দের উন্নতি আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া এবং নিয়মিত একাদশে সুযোগ পাওয়া এক বিষয় নয়। নিজেদের পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা ও কোচের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ওপর নির্ভর করবে তাঁদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা। অভিজ্ঞদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই তাঁদের নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে হবে।
সব মিলিয়ে লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য এই দলটি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে নতুন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গোলরক্ষক থেকে আক্রমণভাগ—প্রতিটি বিভাগেই পরিচিত তারকাদের পাশাপাশি নতুন মুখের উপস্থিতি রয়েছে। এতে দলটির বিকল্প খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্কালোনির পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, দলীয় সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁদের ভূমিকার ওপর।